পুরাতন মোবাইল দ্রুত করার সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

আপনার মোবাইল কি বারবার হ্যাং করে?,  ব্যাটারির পারফরমেন্স কম?  চার্জ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়? ধীর গতিতে চলে?

আসলে নতুন মোবাইল কিনার আগে আপনার পুরাতন মোবাইলের কিছু সেটিংস পরিবর্তন এর মাধ্যমে  আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের পারফরম্যান্স  অনেকটাই উন্নত করতে পারবেন। আমি আজ আপনাদের সামনে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে  ঠিক এমনি কিছু সেটিংস এর কথা বলব।

মোবাইল ধীরগতি হওয়ার পিছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে আমি আপনাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ তুলে ধরব, আমার শেয়ার করা কারণগুলো যদি ঠিকমতো সমাধান করতে পারেন তাহলে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের পারফরম্যান্স উন্নত হবে।

১- স্টোরেজ খালি করুন

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের স্টোরেজ যখন প্রায় পূর্ণ হয়ে যাবে তখন আমাদের ফোন ধীরগতির  হয়ে যাবে,  তখন আমাদের সিস্টেম কাজ করতে পারবে না ঠিকমত তাই মোবাইল স্লো হবে

সমাধান

  • বড় ভিডিও অথবা অপ্রয়োজনীয় ছবি যেগুলো রয়েছে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলুন
  • রিসাইকেল বিন পরিষ্কার রাখুন
  • ডাউনলোড ফোল্ডার ক্লিয়ার করুন
  • অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইন্সটল করুন
  • ৩০% স্টোরেজ খালি রাখুন

২- অ্যাপ আনইন্সটল করুন

অনেক সময় দেখা যায় আমাদের মোবাইল ফোনে এমন কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলা আমরা দিনের পর দিন ব্যবহার করেনা, এবং আমাদের নিজের অজান্তেই এই অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে,  এবং আমাদের ব্যাটারি খরচ করে, তাই অপ্রয়োজনীয়  অ্যাপগুলো যদি আনইন্সটল করে ফেলেন তাহলে আপনার মোবাইল ফোনের পারফরম্যান্স আরো উন্নত হবে।

সমাধান

  • প্রথমে আপনার মোবাইল ফোনের সেটিং অপশনে যান ☞ তারপর অ্যাপ নামে অপশন রয়েছে সেটাই ক্লিক করুন ☞ আপনার অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সিলেক্ট করুন ☞ তারপর আনইন্সটল করুন।

৩-Background অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

ব্যাকগ্রাউন্ড এ যদি অ্যাপ চলতে  থাকে তাহলে আমাদের ব্যাটারি তাড়াতাড়ি খরছ হয়ে  যায় এবং মোবাইল ধীরগতির হয়ে যায় তাই ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ চলছে কিনা সেটা চেক করে বন্ধ করতে হবে

কিভাবে করবেন

  • আপনার ব্যবহার করার পর এফ এর ব্যাকগ্রাউন্ড বন্ধ করে নিবেন।
  • ব্যাটারি অপ্টিমাইজড চালু  রাখবেন

৪-রিস্টার্ট করুন 

অনেক ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করার পাশাপাশি কখনো মোবাইল ফোন রিস্টার্ট করেন না  যার কারনে মেমোরি এবং অস্থায়ী ফাইলের উপরে চাপ পড়ে

কেন মোবাইল রিস্টার্ট করবেন 

  • মোবাইল নতুন করে সিস্টেম প্রসেস করে চালু হয়।
  • কিছু সফটওয়্যার এর সমস্যা সমাধান হয়ে যায়
  • Ram কিছুটা খালি হয়।
৫-Update করুন

যখন আমাদের মোবাইল বিরগতির হয়ে যায় তখন আমাদের দেখতে হবে আমাদের মোবাইলের আপডেট ভার্সন টা পুরাতন কিনা যদি পুরাতন ভার্সন হয় তাহলে আপডেট করে নতুন ভার্সনে ট্রান্সফার করুন

কিভাবে আপডেট করবেন 

প্রথমে আপনার হ্যান্ডসেটের সেটিং অপশনে চলে যাবেন ☞ সফটওয়্যার আপডেট এ ক্লিক করুন ☞ চেক ফর আপডেট ক্লিক করে আপডেট দিন।

৬-লাইট অ্যাপস ব্যবহার করুন

যদি আমাদের মোবাইল ফোনটি পুরনো হয়ে যায় এবং ধীরগতির হয়ে যায় তাহলে লাইট এপ্স ব্যবহার করবেন,  লাইট এপ্স গুলো এত ভারী হয় না।

কেন লাইট এপ্স ব্যবহার করবেন? 

  • Ram কম ব্যাবহার হয়।
  • অ্যাপ এ স্টোরেজ কম খরছ করে।
  • লাইট এপ্স দ্রুত চালু হয়।
  • মোবাইল ডাটা ও কম ব্যবহার করে লাইট এপ।
৭-ব্যাটারির হেলথ পরীক্ষা করুন 

যদি আপনার ফোন পুরনো হয়ে থাকে আর দীর্ঘদিন হয়ে যায় তাহলে ব্যাটারি পরীক্ষা করে দেখুন অনেক সময় ব্যাটারির কারণে মোবাইল  প্রসেসর এর  পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে।

  • দ্রুত  চার্জ কমে যাবে 
  • মোবাইল অটো বন্ধ হয়ে যাবে
  • স্মার্টফোন   গরম হবে

যেভাবে সমাধান করবেন 

  • প্রথমে ব্যাটারি হেলথ অ্যাপস দিয়ে চেক করবেন।
  • যদি হেলথ সমস্যা মনে করেন নতুন ব্যাটারি লাগাবেন।

৮-গরম হওয়া কমাতে হবে 

আমাদের ফোন যদি পুরাতন হয় তাহলে গরম হবে এটা স্বাভাবিক বিষয় আর একটি মোবাইল ফোন যখন গরম হবে সঠিক মত কাজ করতে পারে না আপনার স্মার্টফোন ধীরগতির হবে

কি করবেন?

  • চার্জে লাগিয়ে গেম খেলবেন না
  • অতিরিক্ত রোদে ফোন ব্যবহার করবেন না
  • আপনার প্রয়োজন পড়ে না এমন সকল অ্যাপস আনইন্সটল করে দিন
  • তারপর মোবাইলটি বন্ধ করে আবার চালু করুন

৯-অটো ব্রাইটনেস ব্যবহার করুন

অটো ব্রাইটনেস এর সুবিধা হল পরিবেশ অনুযায়ী আলু কমাবে এবং অটোমেটিক বাড়াবে,  যার ফলে আপনার স্কিনে অতিরিক্ত আলো থাকবে না এবং ব্যাটারির চার্জ খরচ কম হবে মোবাইল  গরম কম হবে এবং মোবাইলের পারফরম্যান্স অনেক বাড়বে।

অটো ব্রাইটনেস এর সুবিধা কি?

  • পরিবেশ অনুযায়ী আপনাকে বারবার আলো কমাতে এবং বাড়াতে হবে না।
  • দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলেও তেমন চাপ পড়বে না ব্যাটারির উপর।
  • আলু পরিমান মতনে তাকায় আপনার চোখের উপর চাপ পড়বে না।
  • ব্যাটারির পারফরমেন্স  ভালো থাকবে।
  • বিভিন্ন পরিবেশে স্কিন পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে।

১০-ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন 

আমি অনেকের মোবাইলে দেখেছি ব্লুটুথ অন থাকে সেটা বন্ধ করার প্রয়োজন মনে করে না, অনেকের ধারণা ব্লুটুথ অন থাকলে হয়তো ব্যাটারি খরচ হবে না,  কিন্তু যখন আপনার ব্লুটুথ চালু থাকবে এবং অন্য ফোন কানেন্ট এর জন্য খুঁজতে থাকবে তখন এটি ব্যাটারির চার্জ খরচ করবে।

কিভাবে বন্ধ রাখবেন? 

☞ আপনার হ্যান্ডসেটের সেটিং অপশনে যাবেন☞ তারপর ব্লুটুথ অপশনে যাবেন☞ তারপর অফ করবেন।

১১-অটো ডাউনলোড বন্ধ করুন 

মাঝেমধ্যে দেখা যায় আমরা যখন ইন্টারনেট চালু করি অথবা wi-fi কানেকশন করি তখন অটোমেটিক ভিডিও ডাউনলোড হয় সেটা টেলিগ্রাম হোক হোয়াটসঅ্যাপ হোক ইউটিউব হোক কিন্তু এই ভিডিও ডাউনলোড আমাদের মোবাইলের ব্যাটারি খরচ করার সাথে সাথে স্টোরিজ পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এতে করে মোবাইল ধীরগতি হয়ে যাবে।

অটো ডাউনলোড বন্ধ করার সুবিধা 

  • সহজে স্টোরেজ পরিপূর্ণ হয় না
  • অকারনে ডাটা অপচয় হয় না
  • অপ্রয়োজনে কোনো ফাইল ডাউনলোড হয় না
  • ব্যাকগ্রাউন্ড এ অ্যাপস চালু না থাকার কারণে মোবাইল ফাস্ট থাকে।

১২- নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন

আমাদের অপ্রয়োজনীয় যতগুলো সবগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ করে রেখে দিন,  যদি নোটিফিকেশন আসে তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ চালু থাকে,  আর আমাদের ডাটা অপচয় হয় ব্যাটারি অপচয় হয় সাথে মোবাইল ধীরগতির হয়, কাজেই যেসব আমাদের তেমন প্রয়োজন হয় না সেগুলো নোটিফিকেশন ভিতর বন্ধ করে নিন।

নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার সুবিধা কি 

  • ফোনে ও প্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন আসা বন্ধ হওয়ায় আপনার মনোযোগ কম থাকবে।
  • ব্যাকগ্রাউন্ডে এক সচল না থাকলে আপনার ব্যাটারি পারফরমেন্স ভালো থাকবে
  • অপ্রয়োজনীয় ডাটা ব্যবহার বন্ধ হবে
  • গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন গুলো সহজে চোখে পড়বে
  • ram এর উপর চাপ কম পড়বে

কিভাবে বন্ধ করবেন?

☞প্রথমে আপনার হ্যান্ডসেটের সেটিংস  অপশনে চলে যান ☞ তারপর নোটিফিকেশন অথবা অ্যাপস নোটিফিকেশন অপশনে চলে যান ☞ তারপর আপনি যে অ্যাপসের নোটিফিকেশন বন্ধ করতে চান সেটাই চলে যান ☞ তারপর এলাও নোটিফিকেশনটি বন্ধ করে দিন।

উপসংহার

পুরনো ফোন স্লো হয়ে গেলে নতুন ফোন কেনার প্রয়োজন পড়ে না সবসময়ই,  আজকের এই আর্টিকেলে যে গাইড গুলো দেওয়া হল সেগুলো থেকে আপনার সমাধান খুঁজে ব্যবহার করলে আপনার মোবাইল আগের তুলনায় ভালো পারফরমেন্স  করবে, তারপর যদি আপনার মোবাইল ধীরগতির থাকে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান অথবা সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যাবেন।

Leave a Comment