অনেকেই মনে করেন মোবাইলে Bluetooth যদি সব সময় চালু থাকে তাহলে ব্যাটারি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাই ব্যবহারকারীরা কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ব্লুটুথ বন্ধ করে দেন, আবার অনেকেই সারাদিন ব্লুটুথ চালু রেখেও কোন পার্থক্য অনুভব করেননি,
আসলে কোনটি সত্য?
আমিও আগে মনে করতাম কাজ শেষ হলেই ব্লুটুথ বন্ধ করে দেওয়া উচিত, কিন্তু ব্লুটুথ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পর বুঝতে পারলাম বিষয়টি এখন আর আগের মত নেই।
আজকের এই লেখায় সহজ ভাষায় আমি আপনাদেরকে জানাবো ব্লুটুথ সব সময় চালু রাখলে আসলে কি ঘটে
বর্তমান Bluetooth প্রযুক্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত
এইতো কয়েক বছর আগে ব্লুটুথ তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করত, আর তখন এটি বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ Android ফোন এবং iphone এ Bluetooth সব সময় চালু রাখলে কি Battery Low Energy প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, এই প্রযুক্তি খুব কম শক্তি ব্যবহার করে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, তাই শুধুমাত্র ব্লুটুথ চালু থাকার কারণে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায় এমন ধারণা এখন আর সঠিক নয়।
ব্লুটুথ বেশি ব্যাটারি খরচ করে যে কয়েকটি কারণে
১ – সব সময় Wireless Earbuds ব্যবহার করলে
সারাদিন ব্লুটুথ ইয়ারবাডস দিয়ে গান শোনেন বা কথা বলেন, অথবা কোন কারণ ছাড়াই কানেকশন দিয়ে রাখেন, তাহলে ব্লুটুথ সক্রিয়ভাবে ডাটা আদান-প্রদান করে, আর তখন আপনার ব্যাটারি খরচ হয়।
২- Smart Watch সংযুক্ত থাকলে
আমরা অনেকেই ব্লুটুথ সংযুক্ত এর মাধ্যমে স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহার করে থাকি আর স্মার্টওয়াচ সারাক্ষণ ফোনের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে
যেমন
- আপনার সকল নোটিফিকেশন স্মার্টওয়াচ এ দেখাবে।
- হেলথ ডাটা দেখাবে
- Call Alert করবে
- Message Sync
- এমন কিছু তথ্য আদান-প্রদান এর কারণে অতিরিক্ত ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়।
- ব্লুটুথ স্পিকার
- কার ব্লুটুথ সিস্টেম
যখন আপনি ব্লুটুথ স্পিকার ব্যবহার করবেন গান শোনার জন্য অথবা বড় কোন File ট্রান্সফার করার জন্য তখন আপনার ব্যাটারি খরচ হবে।
Bluetooth চালু থাকলে কখন battery কম খরচ হয়?
ব্লুটুথ চালু থাকলেই যে ব্যাটারির চার্জ বেশি খরচ হয় তেমন না আবার ব্লুটুথ চালু থাকলে চার্জ কম খরচ হবে বলে দিচ্ছি
- যখন কোন ডিভাইস ব্লুটুথ এর সংযুক্ত থাকবে না
- Phone Idle অবস্থায় থাকলে।
- মাঝে মাঝে স্মার্ট ব্র্যান্ড সংযুক্ত থাকে।
- ব্লুটুথ লো এনার্জি ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে।
Bluetooth Low Energy কী?
প্রিয় বন্ধুরা বর্তমানের অধিকাংশ স্মার্টওয়াচ ফিটনেস ব্র্যান্ড এবং স্মার্ট ট্রেকার ব্লুটুথ লো এনার্জি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর এটার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে
সুবিধা গুলো হল
- কম ব্যাটারি খরচ হয়
- স্থিতিশীল সংযোগ
- দীর্ঘ সময় সংযোগ
- দ্রুত কানেকশন
Bluetooth কি Wi-Fi এর চেয়ে বেশি Battry খরচ করে?
অনেক সময় ওয়াইফাই মোবাইল ডাটা জিপিএস এবং বেশি স্কিন ব্রাইটনেস ব্লুটুথ এর তুলনায় অনেক বেশি ব্যাটারি ব্যবহার করে , তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেশি ব্যাটারি খরচ করে না।
যে ৮টি ফিচার বেশি ব্যাটারি খরচ করে?
যেসব ফিচারগুলো সাধারণত ব্যাটারির খরচ করে সামনে তুলে ধরলাম
- Scren Brightness
- Mobile Data
- GPS
- Gaming
- Camera recording
- Video Streaming
- 5G Network
- Hotspot
Bluetooth সব সময় চালু রাখার সুবিধা কি?
- Earbuds খুব দ্রুত সংযুক্ত হবে।
- Smart Watch সব সময় Sync থাকে।
- গাড়িতে উঠলে কিভাবে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হয়।
- Bluetooth Tracker ব্যবহার করা অনেক সহজ হয়
- Find My Device এর কিছু কিছু ফিচার ভালোভাবে কাজ করে।
কখন ব্লুটুথ বন্ধ রাখা উচিত
ব্লুটুথ যেহেতু চার্জ খরচ করে তাই কিছু কিছু সময় আমাদের ব্লুটুথ বন্ধ রাখা ভালো।
- যখন ব্যাটারি খুব কম থাকে।
- নিরাপত্তার জন্য পাবলিক স্থানে ব্যবহার না করতে চাইলে।
- অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস Pair হয়ে থাকলে
- ভ্রমণ করার সময় যদি চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকে।
- যখন আপনার কোন কিছু ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না।
Battery সাশ্রয়ের জন্য কি করবেন?
- ব্লুটুথ ব্যবহার করার পর বন্ধ করে দিবেন যদি আপনার দীর্ঘ সময় প্রয়োজন না হয়।
- অপ্রয়োজনীয় pair করা ডিভাইস রিমুভ করে দেবেন।
- ব্যাটারি saver mode ব্যবহার করবেন।
- মোবাইল সফটওয়্যার সব সময় আপডেট রাখবেন।
- ব্লুটুথের সঙ্গে একাধিক ডিভাইস যুক্ত করে রাখবেন না।
Bluetooth এবং লোকেশন এর সম্পর্ক কি?
প্রিয় পাঠক অনেকেই পাবেন ব্লুটুথ চালু থাকলেই ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করা যায় আসলে বিষয়টি কিন্তু এরকম নয়
কিছু ফিচার
- Nearby Device
- Quick Share
- Find My Device
- Smart Tag
সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ব্লুটুথ এর পাশাপাশি লোকেশন পারমিশন ব্যবহার করতে হয় তাই ব্লুটুথ চালু মানেই কেউ আপনার অবস্থান জানতে পারবে এমন ধারণা আসলেই ভুল।
আমি কি করি?
আমি সাধারণত ওয়ারলেস এয়ারবোডস ব্যবহার করার সময় ব্লুটুথ চালু রাখি, যখন ব্যবহার শেষ হয় তখন ব্লুটুথ বন্ধ করে দেই, ব্যাটারি বাঁচানোর জন্য যতটা না চিন্তা করি তার চেয়েও বেশি অপ্রয়োজনীয় ব্লুটুথ কানেকশন এড়িয়ে চলার জন্য আমি মূলত এটি করি, যদিও সব সময় বন্ধ না রাখলেও তেমন কোনো সমস্যা হয় না তবু যদি আপনার প্রয়োজন না থাকে তাহলে বন্ধ করে রাখাটাই আমার কাছে সুবিধা মনে হয়।
আমাদের কিছু ভুল ধারণা
ব্লুটুথ নিয়ে এখনো দুটি ভুল ধারণা আমাদের মাঝে বেশি দেখা যায়।
১ – ব্লুটুথ চালু থাকলেই ব্যাটারি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়।
আসলে বাস্তবে আধুনিক ব্লুটুথ এনার্জি প্রজেক্টের কারণে ব্যাটারি এখন অনেক অল্প খরচ হয়
২ – Bluetooth চালু থাকলে মোবাইল গরম হয় কিনা?
এটা সত্য শুধুমাত্র Bluetooth চালু থাকার কারণে সাধারণত মোবাইল ফোন উল্লেখযোগ্য ভাবে গরম হয় না তবে দীর্ঘ সময় অডিও স্টিমিং বা বড় কোন ফাইল ট্রান্সফার করলে আপনার সামান্য গরম হতে পারে।
শেষ কথা :-
বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোন গুলা রয়েছে সেটির সব সময় চালু থাকলেই বড় কোন সমস্যা হবে এমনটি বলা আসলেই ঠিক নয়, যদি আপনি প্রতিনিয়ত ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার করেন তাহলে এটি চালু রাখলেও চিন্তার কোন কারণ থাকবে না, তবে যদি আপনি নিরাপত্তার কারণে চালু রাখতে না চান তাহলে অবশ্যই প্রয়োজন শেষ হলে তা বন্ধ করে রাখবেন, এবং মোবাইল ফোন নিয়মিত আপডেট করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তৌহিদুল ইসলাম শরীফ একজন বাংলা টেক কনটেন্ট লেখক এবং ডিজিটাল মার্কেটিং পেশাজীবী। তিনি প্রযুক্তি, অ্যান্ড্রয়েড টিপস, মোবাইল সমস্যা সমাধান, ইন্টারনেট, Google ও Gmail, Wi-Fi, সাইবার নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি বিষয়ক সহজ, নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক বাংলা কনটেন্ট প্রকাশ করেন।
TZCreation.shop-এর মাধ্যমে তাঁর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে সবার জন্য সহজ করে উপস্থাপন করা, যাতে নতুন ও অভিজ্ঞ—উভয় ধরনের ব্যবহারকারী নির্ভুল তথ্য ও কার্যকর সমাধান এক জায়গায় পান। প্রতিটি নিবন্ধ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, নিয়মিত হালনাগাদ এবং পাঠকের উপযোগী করে উপস্থাপনের প্রতি তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
আপনি যদি প্রযুক্তি বিষয়ক সহজ বাংলা গাইড, মোবাইল টিপস, সমস্যা সমাধান এবং সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য জানতে চান, তাহলে TZCreation.shop নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন।